আদায় ও কালেকশন

কিস্তি শিডিউল, বকেয়া তালিকা আর নিজে নিজে মিলে যাওয়া রিসিট

বাংলাদেশি ডেভেলপাররা বাস্তবে যেভাবে টাকা পান, সেভাবেই বানানো কিস্তি ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার: বুকিং থেকেই তৈরি শিডিউল, প্রতিদিন সকালে সঠিক বকেয়া তালিকা, নিজে থেকেই ধাপে ধাপে বাড়া ফলো-আপ, আর সেলস ও ফিন্যান্স একইভাবে পড়ে এমন ক্রেতার লেজার। আদায় আর কারও স্মৃতির ওপর নির্ভর করে না।

কিস্তি আদায়েই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়, চুপচাপ

একজন ডেভেলপারের নগদ অবস্থা কত ইউনিট বিক্রি হলো তাতে ঠিক হয় না — ঠিক হয় শিডিউলের কত অংশ এ মাসে সত্যিই এসেছে তাতে। ৩৬ মাসের কিস্তি প্ল্যানে ২০০ ক্রেতার আদায়ে মাত্র পাঁচ শতাংশ ঘাটতিও দুই কোয়ার্টার পরে নির্মাণ বিলম্ব হয়ে দেখা দেয়।

প্রচলিত ব্যবস্থায় এই ঘাটতি চোখেই পড়ে না। শিডিউল এক শিটে, রিসিট বইয়ে, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ফাইলে, আর ফলো-আপ কারও মাথায়। "এই মুহূর্তে কে কত বকেয়া, শেষ কবে যোগাযোগ হয়েছে" — এই প্রশ্নের উত্তর দিতে এক দিন লেগে যায়, তাই প্রশ্নটাই আর করা হয় না।

PropERP এটাকে একটা স্ক্রিন বানায়। প্রতিটি ক্রেতার শিডিউল বুকিং থেকেই তৈরি, প্রতিটি রিসিট ইস্যুর সঙ্গে সঙ্গে লেজারে বসে, আর বকেয়া তালিকা রাতেই নতুন করে তৈরি হয়ে যায়। ফলো-আপ তখন অভ্যাস নয়, দায়িত্ব ও তারিখসহ একটি সারি।

এক ক্রেতার লেজার — বুকিং থেকে হ্যান্ডওভার

বুকিং মানি, ডাউন পেমেন্ট, ছত্রিশটি মাসিক কিস্তি আর হ্যান্ডওভার ব্যালান্স — প্রতিটি লাইনে তারিখ, অবস্থা, পেমেন্ট চ্যানেল ও রিসিট নম্বর।

কালেকশন / পেমেন্ট শিডিউল — A-4A · রেজাউল করিম

ইউনিট মূল্য

৳ 1.33 Cr

আদায়

৳ 34.6 L

৩৮টির মধ্যে ৮

এ মাসে দেয়

৳ 2.96 L

বকেয়া

৳ 2.96 L

১ কিস্তি · ১৪ দিন

#ধাপতারিখটাকাঅবস্থারিসিট
00বুকিং মানি29 Jun 2026৳ 5,00,000পরিশোধিত · বিকাশMR-00418
01ডাউন পেমেন্ট15 Jul 2026৳ 21,68,000পরিশোধিত · ব্যাংকMR-00463
02কিস্তি ১/৩৬05 Aug 2026৳ 2,96,111পরিশোধিত · নগদMR-00519
03কিস্তি ২/৩৬05 Sep 2026৳ 2,96,111বকেয়া ১৪ দিন
04কিস্তি ৩/৩৬05 Oct 2026৳ 2,96,111আসন্ন
38হ্যান্ডওভার ব্যালান্স20 Dec 2029৳ 13,34,000নির্ধারিত

বকেয়া ফলো-আপ

সারিবদ্ধ
রিমাইন্ডার ১ — SMSপাঠানো ০৮ সেপ্ট
রিমাইন্ডার ২ — WhatsAppপাঠানো ১৪ সেপ্ট
ডিমান্ড লেটার২২ সেপ্ট
দায়িত্বেকালেকশন — তানভীর

ক্রেতার লেজার

চুক্তিমূল্যের ২৬% আদায়

26%

প্রতিটি রিসিট ইস্যুর সঙ্গে সঙ্গেই অ্যাকাউন্টসে পোস্ট হয় — সেলস লেজার আর ফিন্যান্স লেজার আলাদা হওয়ার সুযোগ নেই।

PropERP কিস্তি লেজার: বুকিং মানি, ডাউন পেমেন্ট ও মাসিক কিস্তি বুকিং থেকেই তৈরি — প্রতিটি লাইনে নিজস্ব তারিখ, রিসিট নম্বর ও পেমেন্ট চ্যানেল।

কালেকশন মডিউল যা করে

বুকিং থেকেই শিডিউল

প্ল্যান বাছলেই পুরো ধারা তৈরি — বুকিং মানি, ডাউন পেমেন্ট, মাসিক বা ত্রৈমাসিক কিস্তি, নির্মাণ-সংযুক্ত মাইলস্টোন পেমেন্ট এবং হ্যান্ডওভার ব্যালান্স। প্ল্যান বদলালে বাকি লাইনগুলো নতুন করে হিসাব হয়।

প্রতিদিন সকালে সঠিক বকেয়া তালিকা

আজকের দেয়, এ সপ্তাহের দেয়, আর বয়সভিত্তিক বকেয়া — প্রজেক্ট, ক্রেতা ও কালেক্টর অনুযায়ী। এটি কাজের তালিকা, কারও বানানো রিপোর্ট নয়।

ধাপে ধাপে বাড়া ফলো-আপ

প্রথম দিনে SMS, সাত দিনে WhatsApp, চৌদ্দ দিনে কল টাস্ক, ত্রিশ দিনে ডিমান্ড লেটার। ধারাটি নিজে চলে আর প্রতিটি যোগাযোগ ক্রেতার রেকর্ডে জমা থাকে।

রিসিট, সমন্বয় ও আংশিক পেমেন্ট

আংশিক পেমেন্ট, অগ্রিম, চেক বাউন্স রিভার্সাল, বিলম্ব ফি ও মওকুফ — সবই নিয়মিত এন্ট্রি, হাতে লেখা নোট নয় যা মোট হিসাব নষ্ট করে।

চ্যানেল ধরে মেলানো

বিকাশ, নগদ, ব্যাংক ট্রান্সফার, পে-অর্ডার, চেক ও নগদ টাকা আলাদা চ্যানেল, তাই ব্যাংক স্টেটমেন্ট মেলানো তদন্ত নয়, তুলনা।

এক লেজার, দুই বিভাগ

সেলস দেখে ক্রেতার কত বাকি; ফিন্যান্স দেখে সেই একই সংখ্যা অ্যাকাউন্টসে পোস্ট হওয়া অবস্থায়। দুটো মেলানোর মাসিক কসরত আর থাকে না, কারণ কখনো আলাদাই ছিল না।

একটি বাস্তব উদাহরণ: ৩৬ মাসের প্ল্যান

১,৪৫০ বর্গফুটের ইউনিট, প্রতি বর্গফুট ৯,২০০ টাকা — ঢাকার বেশির ভাগ ডেভেলপার যে প্ল্যান দেন।

উপাদানভিত্তিপরিমাণসময়
বুকিং মানিনির্দিষ্ট৳ ৫,০০,০০০বুকিংয়ের সময়
ডাউন পেমেন্টইউনিট মূল্যের ২০%৳ ২১,৬৮,০০০৩০ দিনের মধ্যে
মাসিক কিস্তি৩৬টি সমান লাইন৳ ২,৯৬,১১১প্রতি মাসের ৫ তারিখ
ইউটিলিটি ও অন্যান্যহ্যান্ডওভারে৳ ৪,৫০,০০০দখলের আগে
হ্যান্ডওভার ব্যালান্স১০% আটক৳ ১৩,৩৪,০০০সমাপ্তি সনদে

৳ ১.৩৩ কোটির ইউনিট ধরে উদাহরণ। মূল বিষয় কাঠামোটা — এক চুক্তিতেই পাঁচ রকম পেমেন্ট আচরণ, আর ঠিক এ কারণেই "পরিশোধিত" নামের একটিমাত্র এক্সেল কলাম কাজ করা বন্ধ করে দেয়।

একটি বকেয়া কিস্তি যেভাবে আদায় হয়

  1. 1

    শনাক্ত

    তারিখ পেরোলে রাতেই লাইনটি বকেয়া তালিকায় ঢোকে, পরিমাণ ও দিনসংখ্যাসহ।

  2. 2

    রিমাইন্ডার

    আপনার নির্ধারিত সময়ে বাংলা SMS ও WhatsApp টেমপ্লেট যায়, ইউনিট ও টাকার অঙ্ক বসানো অবস্থায়।

  3. 3

    এসকেলেশন

    দায়িত্বপ্রাপ্ত কালেক্টরের কাছে কল টাস্ক যায়; ফলাফল ক্রেতার রেকর্ডে ওঠে, খাতায় নয়।

  4. 4

    আনুষ্ঠানিক

    চুক্তির ধারা, বকেয়া অঙ্ক ও বিলম্ব ফি দিয়ে ডিমান্ড লেটার তৈরি হয়, প্রিন্ট বা ইমেইলের জন্য প্রস্তুত।

কালেকশন অফিসে যেসব খুঁটিনাটি আসলে দরকার

  • বাংলা SMS ও WhatsApp টেমপ্লেট, যেখানে ক্রেতার নাম, ইউনিট নম্বর ও টাকার অঙ্ক ঠিকভাবে বসে।
  • প্রজেক্টভিত্তিক বিলম্ব ফি ও মওকুফের নিয়ম, মওকুফের অনুমোদন ক্রেতার রেকর্ডে সংরক্ষিত।
  • চেক বাউন্স হলে রিসিট রিভার্স হয়ে কিস্তি আবার খুলে যায় — ঝুলন্ত এন্ট্রি থাকে না।
  • রেমিট্যান্সে টাকা পাঠানো NRB ক্রেতা, চ্যানেল ও বিনিময় হিসাব রিসিটেই লেখা।
  • কালেক্টরভিত্তিক টার্গেট ও অর্জন — মাসিক রিভিউ একটি স্ক্রিন, বানানো রিপোর্ট নয়।
  • আদায়ের দিকে AIT ও ভ্যাটের হিসাব, যাতে বছর শেষে ফিন্যান্সকে আবার কাজ করতে না হয়।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

প্রতিটি প্রজেক্টে আলাদা পেমেন্ট প্ল্যান রাখা যাবে?

যাবে। প্ল্যান প্রজেক্ট ও ইউনিট টাইপ অনুযায়ী নির্ধারণ করা যায় — আলাদা ডাউন পেমেন্ট শতাংশ, আলাদা কিস্তি সংখ্যা, নির্মাণ-সংযুক্ত মাইলস্টোন পেমেন্ট এবং আলাদা হ্যান্ডওভার অংশ। প্রয়োজনে কোনো ক্রেতাকে অনুমোদনের ধারা রেখে বিশেষ শিডিউলেও রাখা যায়।

ক্রেতা কিস্তির একাংশ দিলে কী হয়?

আংশিক টাকার বিপরীতে রিসিট হয়, বাকি অংশ মূল তারিখসহ বকেয়াই থাকে এবং অপরিশোধিত অংশের বয়স গোনা চলতে থাকে। অসম্পূর্ণ লাইন কখনো পরিশোধিত দেখায় না।

বাংলায় রিমাইন্ডার কি নিজে থেকেই যাবে?

যাবে। আপনার নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী SMS ও Meta-অনুমোদিত WhatsApp টেমপ্লেট যায়, ক্রেতার নাম, ইউনিট ও টাকা বসানো অবস্থায়। প্রতিটি পাঠানো, ডেলিভারি ও উত্তর ক্রেতার রেকর্ডে জমা থাকে।

ডিমান্ড লেটার তৈরি হয়?

হয় — বকেয়া অবস্থা থেকে চুক্তির ধারা, পরিমাণ, বিলম্ব ফি ও তারিখসহ, আপনার প্যাডে, বাংলা বা ইংরেজিতে, একসঙ্গে অনেকগুলো প্রিন্ট বা ইমেইল করার জন্য প্রস্তুত।

বিকাশ ও নগদের টাকা কীভাবে মেলে?

প্রতিটি চ্যানেল রিসিটে আলাদাভাবে লেখা থাকে, তাই কোনো এমএফএস প্রোভাইডারের স্টেটমেন্ট শুধু সেই চ্যানেলের রিসিটের সঙ্গেই মেলানো হয়। না মিললে পুরোটা আবার দেখার বদলে একটি ছোট ব্যতিক্রম তালিকা আসে।

অ্যাকাউন্টস কি সেলসকে না জিজ্ঞেস করে আদায় দেখতে পারবে?

পারবে। রিসিট ইস্যু হলেই তা অ্যাকাউন্টস লেজারে পোস্ট হয়। ফিন্যান্স সেই একই সংখ্যা নিয়ে কাজ করে যা সেলস দেখে — ফলে মাসিক মিলকরণ সভা ছোট হয় না, একেবারেই লাগে না।

পরবর্তী ধাপ

একটা বকেয়া তালিকা নিয়ে আসুন

একটি বাস্তব পেমেন্ট প্ল্যান আর এক সপ্তাহের আদায় পাঠান। কলে সেই ক্রেতাদেরই দেখাব বকেয়া তালিকা, বয়সভিত্তিক ভাগ আর ফলো-আপ সারি হিসেবে — আজকের ব্যবস্থার চেয়ে ভালো কি না, নিজেই বিচার করুন।

৪০ মিনিট · আপনার প্রজেক্ট কাঠামো ধরে · কোনো কার্ড লাগবে না